ইসলামিক নিয়মে সহবাস করার নিয়ম বা পদ্ধতি কি?

ইসলামিক নিয়মে সহবাস করার নিয়ম বা পদ্ধতি কি?

স্বামী  স্ত্রী সহবাস শুধু যে আনন্দ লাভের জন্য তা নয় কেও যদি ইসলামিক নিয়মে সহবাস করে থাকে তাহলে সেটাও একটা ইবাদত। ইসলামে সহবাসের নিয়মও ব্যাখ্যা করা আছে। ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী সহবাস করলে যৌন আনন্দ লাভ করার পাশাপাশি নেককার সন্তান ও জন্ম হয়ে থাকে।সুতরাং সহবাসের গুরুত্ব ইসলামে অনেক, কারণ সহবাস করা ব্যতীত কখনোই সন্তানের জন্ম হওয়া সম্ভব না । ইসলামে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

ইসলামিক নিয়মে সহবাস করার নিয়ম বা পদ্ধতি কি?

সহবাস করার ইসলামিক পদ্ধতি

ইসলামে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম ব্যাখ্যা করার কারন হচ্ছে কোন দম্পতি যদি স্বামী স্ত্রী সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি না মেনে  সহবাস করেন  তাহলে  সন্তানের শারীরিক বিকলাঙ্গতা বা সন্তানের  উপর শয়তানের কুপ্রভাব পড়তে পারে। অবশ্যই সহবাস করার পূর্বে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সহবাসের নিয়ম গুলো মেনে চলা উচিত।



স্ত্রী সহবাসের নিয়ম 



ইসলামধর্মে যেকোন কাজ করার পূর্বে অবশ্যই বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে হয়।ঠিক তেমনি সহবাসের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়।ইসলামিক নিয়মে সহবাস এর ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে হবে। এমনকি কোন কারনে ভুলে গেলে বীর্যপাতের পূর্বেই বলে নিতে হবে।


পাকপবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। ইসলামিক নিয়মে সহবাসের পূর্বে  অবশ্যই স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পাক-পবিত্র হওয়া বাধ্যতামূলক । 


সহবাস করার ইসলামিক পদ্ধতি

ইসলামিক নিয়মে সহবাস এর পূর্বে অবশ্যই যদি যেকোন প্রকার সুগন্ধি যেমন আতর অথবা যে কোনো হালাল সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত।এতে করে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করবে। এছাড়া সহবাসের পুর্বে যেকোনো নেশাজাতীয় দ্রব গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উত্তম ।যা সহবাসকে আনন্দঘন করে তুলবে। 


সহবাস করার সময় দিকনির্নয় করার ক্ষেত্রে যেকোন দিকে সহবাস করা যাবে তবে  কেবলা বা পশ্চিমমুখে পা দিয়ে সহবাস করা যাবে না।


ইসলামিক নিয়মে সহবাস করার  ক্ষেত্রে অবশ্যই সময় অবশ্যই পুরোপুরি উলঙ্গ  হওয়া উচিত নয় ।


সহবাস করার সময় অবশ্যই স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি প্রদান করে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বীর্যপাত এর পরও স্ত্রীর উপর শুয়ে থাকতে হবে যাতে করে সে নিজের খায়েশ পুর্নাঙ্গ করে নিতে পারে ।


ইসলামিক নিয়মে সহবাস এ বীর্যপাতের সময় অবশ্যই  মনে মনে নিম্মোক্ত দোয়াটি পড়তে হবে।

সহবাসের দোয়া, হাদিস,কুরআন
সহবাস করার ইসলামিক পদ্ধতি


সহবাসের দোয়া কেন পড়া আবশ্যক?


শয়তানের কাজ হচ্ছে মানুষকে অন্যায় কাজে প্ররোচিত করা। মানুষ যখন কোন ভালো কাজ করতে অগ্রসর হয় শয়তান সেই কাজকে অন্যায়ে পরিবর্তিত করতে চায়।এজন্যই আমাদের আল্লাহ তালার কাছে পানাহ চাইতে হবে যাতে মহান আল্লাহ তালা আমাদের শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা করেন। আর মহান রব্বুল আল আমিন এর কাছে সাহায্য চাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে দোয়াপাঠ করা। ইসলামিক নিয়মে সহবাস এর সময় শয়তানের কু প্ররোচনা থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্যই এই দোয়া পাঠ করতে হবে। 



সহবাস করার ইসলামিক পদ্ধতি

সহবাসের দোয়া কি নারী-পুরুষ উভয়েই পড়তে পারবে?


ইসলামিক নিয়মে সহবাসের দোয়া অবশ্যই নারী-পুরুষ উভয়কেই আলাদাভাবে পড়ে নিতে য়। যেহেতু এই দোয়াটি শয়তানের কুপ্রভাব থেকে বিরত রাখার জন্য সুতরাং উভয়কেই পাঠ করতে হবে । এজন্যই সহবাস শুরুর পূর্বে স্বামী স্ত্রী উভয়কেই আলাদাভাবে দোয়াটি পড়ে নিবেন

একটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে স্ত্রীর ঋতুকালীন সময় এবং পায়ুপথে  সহবাস করা ইসলামে হারাম এবং খুবই গুনাহের কাজ।আরেকটা হারাম কাজ হচ্ছে চন্দ্রমাসের প্রথম এবং পনেরতম  রাতে সহবাস করা।এই দুইদিনও অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।


ইসলামিক নিয়মে সহবাস এর সময় কোনভাবেই স্ত্রীর যৌনাঙ্গ এর দিকে চেয়ে সহবাস করা যাবে না।এটা সম্পূর্ণ হারাম এবং গুনাহের কাজ।

অনেকেই এটা জানেন না যে
  ইসলামিক নিয়মে সহবাসে দূরবর্তী স্থানে  বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না।


আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা অনেকেই ভুল করে থাকেন সেটা হচ্ছে সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা বলতে ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে।অধিকন্তু ঠিক জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করতেও নিষেধ করা হয়েছে।


ইসলামিক নিয়মে সহবাসের ক্ষেত্রে উল্টাভাবে স্ত্রীর সাথে  সহবাস করা যাবে না এবং ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না।যদি ভুলক্রমে স্বপ্নদোষ হয়ে যায় তাহলে সহবাসের পূর্বে অবশ্যই গোসল করে পাকপবিত্র হয়ে নিতে হবে ।এছাড়া রাত্রি দ্বি-প্রহরের পুর্বে সহবাস থেকে বিরত থাকা উত্তম।

Post a Comment

0 Comments