আল্লাহকে ভালবাসার উপায় কি?

 আল্লাহকে ভালবাসার উপায় হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর অনুসরণ, আনুগত্য করা। হজরত মুহাম্মদ সঃ এবং আল্লাহ তালার প্রত্যি আনুগত্য প্রদর্শনই  পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের একমাত্র পথ


আল্লাহকে ভালবাসার উপায়



মহান আল্লাহ তালা  মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ কে অনুসরণ করাকেই  আল্লাহ তাআলার অনুসরণ ও ভালোবাসা/অনুগ্রহ  লাভের প্রধানমত শর্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন এ মহান আল্লাহ তালা মানুষকে বলেন,

قُلْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَالرَّسُولَ فإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ الْكَافِرِينَঅনুবাদ : ‘(হে রাসুল!) আপনি বলে দিন, আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য প্রকাশ কর। আর যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা ইমরান : আয়াত ৩২)


আরেকটি আয়াতে মহান আল্লাহ তালা বলেন,

‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ কর; তাহলেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৩১)


 সুতরাং আল্লাহকে ভালবাসার উপায় হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ কে ভালবাসা, অনুসরণ করা। 

এছাড়া হাদীস শরীফে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ বলেন


আল্লাহকে ভালবাসার উপায়




মুলত এই হাদিস আর আয়াত গুলো নিয়েই কাফির মুরতাদদের অভিযোগ। তাদের অভিযোগ মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ নিজেই মহান আল্লাহ তালা সাথে শিরক করেছেন এবং নিজেকে মহান আল্লাহ তালার সমকক্ষ উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আসলেই কি তাই?



এখানে আনুগত্য বলতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ)  তার নিজের দেখানো পথ নয় বরং মহানবী (সঃ) নিজে যেই পথ অনুসরণ করে চলেন অথবা মহান আল্লাহ তালা রাসুলুল্লাহ সাঃ কে যে পথে চলতে বলেছেন সেই পথ অনুসরণ করা বোঝানো হয়েছে। আল্লাহকে ভালবাসার উপায় এটাই



মহান আল্লাহ তালা প্রত্যেক মুসলমানকে নামাজ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু কোরআন শরীফের কোথাও নামাজ আদায়ের নিয়ম কানুন বিস্তারিত তুলে ধরেননি।বরং মহানবী সঃ এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে শিখিয়েছেন। এখন কেও যদি মহানবী সঃ এর দেখানো নিয়ম অনুসারে নামাজ আদায় করে তাহলে কাকে অনুসরণ করা হবে??  আল্লাহ তালাকে না মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ কে? আল্লাহকে ভালবাসার উপায় হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর দেখানো নিয়ম অনুযায়ী ইবাদত বন্দেগি করা



একইভাবে মহান  আল্লাহ তালা অন্য সকল প্রকার ইবাদত মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর মাধ্যমেই আমাদেরকে শিখিয়েছেন। এখন আপনি কি মুহাম্মদ সঃ এর শেখানো পদ্ধতিতে ইবাদত করবেন নাকি নিজের মনমতো যেকোনো ভাবে আদায় করবেন?


একটা উদাহরণ এর মাধ্যমে বিষয় টা আরো সহজভাবে তুলে ধরা যাক।।

পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে কোন দেশের আইনকে সমুন্নত রাখা।এখন কোন পুলিশ যদি আপনাকে বলে আপনি আইনের আনুগত্য করলেন মানে প্রধানমন্ত্রীর আনুগত্য করলেন।এখন ওই পুলিশটাই কি প্রধানমন্ত্রী?  নাকি পুলিশ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর আইনের একজন রক্ষক? কোনটা সঠিক? এখন আপনি নিজেই আরেকবার হাদিস টা এবং কুরআনের আয়াত ২ টা পড়ুন।


কুরআন শরীফ পড়ার জন্য আমরা যেই রেহেল(বসিয়ে রেখে পড়ার জন্য কাঠের তৈরি একধরনের স্থাপক) ব্যবহার করি তা কিন্তু অনেক কমদামি কাঠের তৈরি। অথচ যদি কোন কারনে তাতে পা লেগে যায় অথবা হাত থেকে পড়ে যায় আমরা উঠিয়ে বার বার চুমু খাই। কুরআন মাজিদের সংস্পর্শে আসার কারনে কমদামি কাঠের যদি এত দাম বেড়ে যায় তাহলে এই কুরআন মাজিদ যে নবীর উপর নাজিল হয়েছে তিনি কত মহামুল্যবান আর মহান আল্লাহ তালার কাছে কতখানি প্রিয় পাত্র হতে পারে তা কি আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে? 


সুতরাং আল্লাহকে ভালবাসার উপায় হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ এর অনুসরণ করা, আনুগত্য করা, তার দেখানো নিয়ম অনুযায়ী ইবাদত বন্দেগি করা। 




Post a Comment

0 Comments