মেয়েদের চাকরি ইসলাম কি বলে।ইসলামে মেয়েদের চাকরি

মেয়েদের চাকরি ইসলাম কি বলে
নারীবাদী আর ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামে মেয়েদের চাকরি করার বিষয় এ প্রশ্ন তুলে মুসলিম মেয়েদের বিভ্রান্ত করার জন্য অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কুরআনের যে আয়াতটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে সুরা আহযাব এর ৩৩ আয়াত। যেখানে বলা আছে "তোমরা গৃহাভ্যান্তরে অবস্থান করো"।

নারীবাদীরা এই আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে বলে এখানে মেয়েদের ঘরে আবদ্ধ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আসুন আমরা বিস্তারিত দেখি।
ইসলামে মেয়েদের চাকরি

এই আয়াতটি মেয়েদের ঘরে আবদ্ধ রাখার বিষয় এ বলেনি বরং এখানে বুঝিয়েছে নারীরা হচ্ছে ঘরের কন্ট্রোলার। মেয়েদের যাবতীয় ভরনপোষণ এর দায়িত্ব পুরুষের।নারীদের এই দিক দিয়ে ইসলাম বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে।পুরুষরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, কলকারখানা,অফিস আদালত এ কাজ করে অর্থ উপার্জন করবে। আর মেয়েদের দায়িত্ব থাকবে সেই অর্থকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ঘরকে সুখময় করে তোলা। ।ইসলামে মেয়েদের চাকরি বিষয়ে জবরদখল করেনি কারন মেয়েরা স্বামীর ঘরে অথবা বাবার ঘরে যেখানেই থাক তাদের ইকোনোমিকাল কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ইসলাম মেয়েদের খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানসহ যেকোনো প্রকার ব্যায় এমনকি ব্যক্তিগতপ্রয়োজনীয় ব্যায়, সংসার পরিচালনা ও সন্তান সন্ততিসহ পারিবারিক ও সামাজিক অন্যান্য ব্যয়ভার থেকে মেয়েদের সম্পূর্ণরূপে দায়মুক্ত করেছে। এ ব্যাপারে মেয়েদের উপর কোনোরুপ দায়বদ্ধতা নেই। সমস্তপ্রকার স্বামী বা পিতার উপর আরোপিত করা হয়েছে।

মেয়েরা অশালীনভাবে ঘরে থেকে শিক্ষা দীক্ষা অর্জন করবে আর উপার্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে ঘরকে বেহেস্ত বানিয়ে নেবে।ইসলাম অনুযায়ী এটাই মেয়েদের প্রধানতম দায়িত্ব। এর বাইরে মেয়েদের উপর অতিরিক্ত কোনোরুপ দায়িত্বারোপ করা হয়নি। কোনো স্বামীকেই কোনভাবে নিজের স্ত্রীকে বাহিরের কাজে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করার কোনো সুযোগ ইসলাম দেয়নি।

বুখারী শরীফের ৮৯৩ হাদিস অনুযায়ী মহানবী হজরত মুহাম্মদ সঃ বলেন প্রত্যেক নারী তার স্বামীর গৃহের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর কিয়ামতের দিন সে তার এ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সহীহ বুখারী, হা.নং ৮৯৩)

সুতরাং ইসলামে মেয়েদের চাকরি করার ব্যাপারে বাধ্য না করে ঘরের কাজেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। মেয়েরা যদি চাকরিতে ঘরের বাইরে বের হন তাহলে তার সন্তানকে অবশ্যই কোন বুয়া অথবা ডে কেয়ারে রেখে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে মায়ের অনুপস্থিতিতে তার বাচ্চাকে কাজের মেয়ে বা বুয়া কিভাবে লালনপালন করবে সেটা তিনি খুব ভাল করেই জানেন। অথচ বর্তমানে দেখা যায় তথাকথিত ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে ববর্তমানে কিছু মায়েরা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করার দায়িত্বের পরিবর্তে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস করে তার ক্যারিয়ারের মর্যাদা(?) রক্ষা করেন।।অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার স্বামীর ইনকাম দিয়ে তাদের সংসার খুব ভালো করেই চলে যেত।শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের দোহায় দিয়ে সন্তানকে বুয়ার কাছে রেখে তার বাহিরে কাজ করতে যাওয়ার কোনই প্রয়োজন ছিল না।   এটা সত্য যে যে সকল মেয়েরা গার্মেন্টসে চাকুরী করেন, কম - বেশি তাদেরটা অবশ্যই প্রয়োজনের তাগিদেই! অথচ যে সকল মেয়েরা  কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে চাকরি করেন,  তাদের অধিকাংশই বিলাসিতাকে আরেক ধাপ বাড়িয়ে নিতে। প্রয়োজন আর বিলাসিতা কি এক জিনিস? যদি প্রয়োজন পূরনের জন্য তার বাবা বা স্বামীই যথেষ্ট হয়ে থাকেন তবে কোনভাবেই মেয়েদের ঘরের বাইরে শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য বের হওয়া কাম্য নয়।

এর মানে কি ইসলামে মেয়েদের চাকরি করতে সম্পুর্ণ নিষেধ করেছে?

জ্বি না, অবশ্যই চাকরি বা বাইরে কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেমন মা খাদিজাতুল কোবরা নিজে ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তবে যেসকল কাজ মেয়েদের জন্য উপযুক্ত সেসব কাজই মেয়েদের করা উচিত। যেমন -শিক্ষকতা, ডাক্তারী, নার্সিং,সেলাই এবং ইত্যাদি । 

যেহেতু মেয়েদের মাহরাম পুরুষ এর সামনে যাওয়া নিষিদ্ধ, সুতরাং কর্মক্ষেত্রে শুধুমাত্র মেয়ে থাকাই বাঞ্চনীয়। তাছাড়াও কর্মক্ষেত্রে তাকে পূর্ণরুপে পর্দা পালন করতে হবে।আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কাজ এমন হওয়া উচিত নয় যার কারনে নিজের স্বামী, সন্তান, গৃহের দায়িত্ব কে উপেক্ষা করা লাগে। সব কথার শেষ কথা একটাই  ইসলামে মেয়েদের চাকরি নিষিদ্ধ নয়। তবে নিজের দায়িত্ব এবং পর্দার ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। হাশরের দিন মহান আল্লাহ তালা পরিবারের ভরনপোষণ এর হিসাব ছেলেদের কাছ থেকে নিবেন,মেয়েদের কাজ থেকে নয়। তবে মেয়েদের কাছ থেকে অবশ্যই হিজাব এর বিষয় এ জবাবদিহি করবেন।

সুতরাং ভালো মন্দ হিসাবের দায়িত্ব মেয়েদের হাতেই তুলে দেওয়া হলো

Post a Comment

0 Comments