বানু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড ( মহানবী (সাঃ) কি অন্যায়ভাবে বনু কুরাইজাদের হত্যা করিয়েছিলেন )?

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি অন্যায়ভাবে বনু কুরাইযাদের হত্যা করিয়েছিলেন?

ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে হিটলার।যিনি প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু আজ সবভুলে গিয়ে গিয়ে একযোগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে মহানবী (সাঃ) অন্যায়ভাবে বনু কুরাইযা গোত্রের লোকদের হত্যা করেছেন কিন্তু আমরা আসলেই দেখতে চাই তিনি অন্যায়ভাবে হত্যা করিয়েছিলেন কি না।

বানু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড


মহানবী (সঃ) এর মদিনাতে হিজরতের পর চুক্তি অনুসারে কুরাইযা সহ সব ইহুদী গোত্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল যে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন কাজে অংশ নেবে না।কখনো মদিনা আক্রমনের শিকার হলে তারাও মুসলিমদের মতো মদিনা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে। কিন্তু চুক্তির শর্তের কথা ভুলে গিয়ে কুরাইযা সহ বাকী ইহুদী গোত্র একাধিকবার শত্রুপক্ষের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। মহানবী (সাঃ) জানার পর বানু কুরাইজার ইহুদীদের এই অপরাধ আগে একবার ক্ষমা করে দেন।শর্ত দেওয়া হয় এরপরে আর কখনোই তারা মুসলিমদের শত্রুদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ ও তাদের কোনভাবেই সাহায্য করবেনা।মহানবী (সাঃ) তাদের বিনাদণ্ডে ও বিনা ক্ষতিপূরণে মাফ করে দেন। কিন্তু খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজিত হতে পারে এটা ভেবে তারা চুক্তির শর্তকে ভুলে যায়। দুইজন সাহাবী কুরাইযা পল্লীতে উপস্থিত হয়ে আগের চুক্তি ভঙ্গ করার কথা তুলে ধরেন ও তাদেরকে এই বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু তারা উল্টো বাজে ভাবে সাহাবিদের অপমান করে।তারা চুক্তির শর্তকেও অস্বীকার করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে।

খন্দক যুদ্ধ শেষে মহানবী (সাঃ) যখন কিছুটা বিশ্রাম করতেছিলেন তখনি মহান আল্লাহ তালা জীবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে রাসুল (সাঃ)-কে বানু কুরাইযা গোত্রের অপরাধের কথা মনে করিয়ে দেন, ও তখনই মুসলিম বাহিনী কুরাইযা গোত্রের দিকে যাত্রা শুরু করে। মুসলমান বাহিনী দূর্গের সামনে এসে পৌঁছলে তারা মুসলিমদের উদ্দেশ্য অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে। তারা মনে প্রানে বিশ্বাস করেছিল যে ইহুদীদের যৌথ বাহিনী তাদের বসতীতে উপস্থিত হবে ,তখন দুই ইহুদী বাহিনী একত্রে মুসলমানদের খুব সহজেই পরাজিত করে ফেলবে এবং পুরো মদিনা তাদের হয়ে যাবে ।কিন্তু বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও মিত্রদের দেখা না পেয়ে আত্মসমর্পণ এর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তারা রাসুল (সাঃ) এর চেয়ে তাদের পুরোনো বন্ধু সাদ-বিন-মুয়াদের কাছে আত্মসমর্পণ করাকে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করে এবং তার কাছেই আত্মসমর্পণ করে। সাদ (রাঃ) অপরাধমাত্রা বিবেচনা করে শুধুমাত্র যোদ্ধাদের প্রানদন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন,বাকি সবাইকে বন্দী করার নির্দেশ দেন। তাদের অপরাধ মাত্রা বোঝার জন্য আমরা সনদ বা চুক্তিপত্রের দিকে একটু আলোকপাত করি।তাহলে দেখা যাবে যে তারা আসলেই অপরাধ করেছিল কি না।


সনদের কিছু ধারা সংক্ষেপে অনেকটা এই রকম ছিলঃ ১।মদীনাতে বসবাসরত সবাই একই জাতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

২। এই সনদে সাক্ষর করেছে এমন গোত্র আক্রমণ এর স্বীকার হলে সবাই মিলে যুদ্ধ করবে ।

৩। কোরাইশদের থেকে দূরে থাকতে হবে ।

৪। মদিনা আক্রান্ত হলে একত্রে বাধা দেবে।

৫। কারো ধর্ম প্রচারে কেও বাধা দেবে না।

কিন্তু বানু কুরাইযা গোত্র এই চুক্তির বরখেলাপ করে। ঘটনা তো জানা হলো এখন অভিযোগগুলোর দিকে একটু তাকানো যাক। প্রথম অভিযোগ হচ্ছে মহানবী (সাঃ) অকারনে তাদের উপর হামলা করেছিল।আসুন একটু অভিযোগ টা বিশ্লেষণ করে দেখি। প্রথমবার বিনা শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমা করায় তারা স্বভাবতই দ্বিতীয়বার ভুল করার সাহস পেয়েছে। দ্বিতীয়বারেও মহানবী (সাঃ) বিষয়টাকে হালকা ভাবে নিলে তারা আরো বড় অপরাধ করতো।এজন্য মহানবী সাঃ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন।

খন্দকের যুদ্ধে দীর্ঘ পরিখা খননের পর মুসলিম বাহিনী ছিল কিছুটা হলেও ক্লান্ত ছিল।কিন্তু বিশ্রামের পরিবর্তে মহানবী সাঃ তাদের নিয়ে কুরায়যা গোত্রে উপস্থিত হয়েছেন তার মানে অবশ্যই সমস্যা গুরুতর ছিল।গুরুতর না হলে কিছুটা বিশ্রামের পরে ব্যবস্থা নিলেও চলতো।কিন্তু মহানবী (সাঃ) কেন সেটা করেননি একজন বাচ্চা ছেলেও বুঝবে? সুতরাং আসলেই কি কারন ছাড়া আক্রমণ (!) করা হয়েছিল? আর দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে সব পুরুষদের হত্যা করা।কিন্তু এখানে বিশেষভাবে মনে রাখা উচিত সাদ(রাঃ) শুধুমাত্র যোদ্ধাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং সকল পুরুষদের হত্যার অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা। আর সেকালে যুদ্ধ করার জন্য আলাদা বাহিনী ছিল না প্রাপ্ত বয়স্ক সকল পুরুষই ছিলেন যোদ্ধা।এজন্যই সকল যোদ্ধা বা প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোন ছেলে শিশুকে হত্যা করা হয়নি।


এই আধুনিক যুগে শিক্ষিত সব মানুষই জানে হত্যাকাণ্ড কি আর মৃত্যদন্ড কি।কাওকে হত্যা করা অবশ্যই খারাপ কাজ কিন্তু কোন ঘৃণ্য দেশদ্রোহীকে যখন অপরাধ মাত্রা বিশ্লেষণ করে শাস্তি হিসেবে হত্যা করা হবে সেটাও কি খারাপ কাজ?সেটাকে বলা হয় মৃত্যুদন্ড। বানু কুরাইযা গোত্রও চুক্তি ভঙ্গ করে নিজেদের স্বদেশ মদীনার স্বার্থ বিরুদ্ধ হয়ে কুরাইশ দের পক্ষে কাজ করেছে, যা দেশদ্রোহীতার শামিল আবার চুক্তির শর্ত বরখেলাপ করেছে যেটাও ঘৃণ্য অপরাধ। সুতরাং বানু কুরাইযার যোদ্ধাদের হত্যা নয় শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পুর্ণ অমুলক এবং উদ্দেশ্যমুলক। ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম।শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে,সমাজে অন্যায় অবিচার দূর করতে হলে অনেক সময় কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়। বানু কুরাইযা গোত্রের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা ঠিক তেমনই এক নিদর্শন। যুগে যুগে মিথ্যা অভিযোগ ছিল, আজও থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা অভিযোগ করে তারাও খুব ভাল করেই জানেন যে অভিযোগ গুলো অমুলক। তবুও তারা নিজেদের বিশ্বাস কে টিকিয়ে রাখার জন্য জোর করেই অভিযোগ গুলোকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন

মহানবী (সাঃ) কি অন্যায়ভাবে বনু কুরাইজাদের হত্যা করিয়েছিলেন (বানু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড)? মহানবী (সাঃ) কি অন্যায়ভাবে বনু কুরাইজাদের হত্যা করিয়েছিলেন (বানু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড)? মহানবী (সাঃ) কি অন্যায়ভাবে বনু কুরাইজাদের হত্যা করিয়েছিলেন (বানু কুরাইজা হত্যাকাণ্ড)?

Post a Comment

0 Comments